নিতুড়িয়ায় পানীয় জল প্রকল্পের কাজে গতি আনতে জেলাশাসকের পরিদর্শন।

পুরুলিয়ার নিতুড়িয়া ব্লকে পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে সক্রিয় প্রশাসন। কাজ পরিদর্শনে গেলেন জেলাশাসক সুধীর কোন্থাম। দ্রুত কাজ শেষের নির্দেশ।

nituria water project

পুরুলিয়া জেলার অন্যতম শুষ্ক এলাকা হিসেবে পরিচিত নিতুড়িয়া ব্লকে পানীয় জলের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল জেলা প্রশাসন। 

সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে নিরাপদ ও পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া এখন প্রশাসনের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। 

এই লক্ষ্য পূরণেই শনিবার নিতুড়িয়া ব্লকের পিএইচই (PHE) উত্তর অঞ্চলের চলমান জল প্রকল্পের কাজ সরজমিনে খতিয়ে দেখলেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থাম।

এদিন জেলাশাসক ব্লকের শিউলিবাড়ি অঞ্চলের জাহের থান ও মাঝির থানসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখেন। 

সেখানে জল সরবরাহের পাইপলাইন বসানো থেকে শুরু করে পরিকাঠামো তৈরির কাজ কতটা এগিয়েছে, তা তিনি খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। 

পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রকল্পের গুণমান যাচাই করা এবং কাজ যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হয় তা নিশ্চিত করা। 

জেলাশাসকের এই অতর্কিত পরিদর্শনে দপ্তরের কর্মীদের মধ্যে যেমন তৎপরতা বেড়েছে, তেমনই আশার আলো দেখছেন এলাকার বাসিন্দারা।

পরিদর্শনকালে জেলাশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রঘুনাথপুরের মহকুমাশাসক বিবেক পঙ্কজ, নিতুড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, পুরুলিয়া জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ এবং জেলা পরিষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। 

এছাড়াও পিএইচই দপ্তরের সহকারী বাস্তুকার ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এই প্রতিনিধি দলে শামিল ছিলেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের গুণমানের প্রশ্নে কোনো রকম আপস করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন জেলাশাসক। 

কাজের ধীরগতি বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে পুরুলিয়ার এই রুক্ষ প্রান্তরে গরমের তীব্রতা বাড়ার আগেই যাতে বাড়ি বাড়ি ট্যাপের মাধ্যমে জল পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ চলছে।

নিতুড়িয়া ব্লকের গ্রামগুলিতে গ্রীষ্মকাল এলেই জলের হাহাকার দেখা দেয়। কুয়ো বা টিউবওয়েলের জল শুকিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে অনেক দূর থেকে জল সংগ্রহ করতে হয়। 

এই বৃহৎ জল প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। এলাকাবাসীর মতে, খোদ জেলাশাসক নিজে এসে কাজের তদারকি করায় প্রকল্পের গতি নিশ্চিতভাবে বৃদ্ধি পাবে। 

এখন শুধু অপেক্ষা, কবে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ট্যাপ খুলে মিলবে স্বচ্ছ পানীয় জল।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url