কেন্দ্র-রাজ্যের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে এসইউসিআই-এর প্রতিবাদ সভা।

পুরুলিয়ার হাটের মোড়ে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)-এর প্রতিবাদ সভা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রেল দুর্নীতি এবং জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সরব দল।

suci protest purulia

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একের পর এক জনবিরোধী নীতি, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদে পুরুলিয়া শহরে সরব হল এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দল। 

শুক্রবার পুরুলিয়া শহরের জনবহুল হাটের মোড়ে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) পুরুলিয়া লোকাল কমিটির উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

এই সভা থেকে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানানো হয়।

প্রতিবাদ সভা থেকে যে মূল বিষয়গুলি উঠে আসে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল এসআইআর (SIR) শুনানির নামে বয়স্ক ও অসুস্থ নাগরিকদের অকারণে হয়রানি। 

বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের প্রতি এই অমানবিক আচরণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এবং রাজ্য সরকারের রাজ্য শিক্ষানীতি ২০২৩ বাতিলের দাবি জানানো হয়। 

তাঁদের অভিযোগ, এই নতুন শিক্ষানীতিগুলি শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ঘটাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের সন্তানদের উচ্চশিক্ষা লাভের পথ রুদ্ধ করছে।

রেল পরিষেবাতেও চরম অব্যবস্থা এবং লাগামছাড়া ভাড়া বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা করা হয় সভা থেকে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ পরিষেবা ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্নীতি এবং আরাবল্লী পর্বতমালাকে কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হন দলের নেতৃবৃন্দ। 

সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার যে চক্রান্ত চলছে, তার বিরুদ্ধেও কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)-এর জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বিকাশ কুমার এবং লোকাল সম্পাদক সুব্রত মুখার্জি বলেন, "আজ সাধারণ মানুষের ন্যূনতম অধিকার আজ প্রশ্নের মুখে। বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের সাথে যে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে, তা গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে কর্পোরেটদের মুনাফা লুটের পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে।" 

তাঁরা দৃঢ়ভাবে জানান, জনস্বার্থে এই আন্দোলন আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আকারে গড়ে তোলা হবে এবং সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সরকারবিরোধী এই সংগ্রাম জারি থাকবে।

সকাল সাড়ে দশটা থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ সভায় এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)-এর জেলা কমিটির সদস্যবৃন্দ সহ প্রায় ১৫ জন পার্টি সদস্য ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। 

সভার চলাকালীন হাটের মোড় এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে, যা এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি করে।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url