সরস্বতী পুজোয় সরকারি প্রকল্পের থিম তাই অভিনন্দন জানালেন অভিষেক।
পুরুলিয়া মিউনিসিপ্যাল ম্যানেজমেন্ট উচ্চ বিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজোয় ফুটে উঠল মিড ডে মিল থেকে তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প।
অভিনব এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সরস্বতী পুজো মানেই বাঙালির কাছে বিদ্যার দেবীর আরাধনা, নতুন খাতা-কলম আর বাসন্তী রঙের সাজ।
তবে এই চেনা ছবির বাইরে বেরিয়ে এবার এক সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ভাবনায় নজর কাড়ল পুরুলিয়া শহরের মিউনিসিপ্যাল ম্যানেজমেন্ট উচ্চ বিদ্যালয়।
বাগদেবীর বন্দনাকে কেন্দ্র করে পড়াশোনার সঙ্গে বাস্তব জীবনের নিবিড় যোগসূত্রটি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এখানে পুজো মণ্ডপটি কেবল উপাসনার জায়গা নয়, বরং হয়ে উঠেছে এক সচেতনতার পাঠশালা।
ছাত্রছাত্রীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা বিভিন্ন শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক ভাবনাগুলিকে শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপ সজ্জায়।
কোথাও শিক্ষার অধিকারের কথা বলা হয়েছে, আবার কোথাও তুলে ধরা হয়েছে ছাত্রজীবনের নানা সহায়তার দিক।
মূলত মণ্ডপের পরতে পরতে রাজ্যের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প যেমন— মিড ডে মিল, স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ, সবুজ সাথী, শিক্ষাশ্রী এবং তরুণের স্বপ্ন-র মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব পেয়েছে।
এই প্রকল্পগুলো সম্পর্কে পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও বেশি প্রচার চালানোই ছিল স্কুল কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য।
প্রতিমা গঠনে বজায় রাখা হয়েছে চিরাচরিত সাবেকিয়ানা, যাতে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক সমাজ ভাবনার এক সুন্দর মেলবন্ধন ঘটে।
মণ্ডপের প্রতিটি কোণে পুরুলিয়ার নিজস্ব লোকসংস্কৃতি ও শিক্ষার গুরুত্ব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
পুজোর পাশাপাশি দু’দিন ধরে আয়োজিত হয়েছে নাচ, গান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা তাদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পেয়েছে।
বিদ্যালয়ের এই ব্যতিক্রমী ভাবনা নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলেরও। এই অভিনব উদ্যোগের প্রশংসা করে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি বিলাল খানকে সরাসরি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন।
হাইপ্রোফাইল নেতার এই শুভেচ্ছাবার্তায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত গোটা স্কুল চত্বর।
এ প্রসঙ্গে সভাপতি বিলাল খান জানান, সরস্বতী পুজোর এই আবহে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সরকারি প্রকল্পগুলো নিয়ে সচেতনতা তৈরি করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল।
এর ফলে পড়ুয়ারা তাদের প্রাপ্য অধিকার ও সুযোগ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবে। বিদ্যালয়ের করনিক অনির্বাণ মণ্ডলের মতে, সরস্বতী পুজো হলো জ্ঞান ও বোধের আরাধনা।
তাই মণ্ডপ সজ্জার মাধ্যমে দেওয়া এই বার্তা আদতে শিক্ষারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা ছাত্রছাত্রীদের আগামী দিনে পথ চলতে সাহায্য করবে।
সব মিলিয়ে, এবারের সরস্বতী পুজোয় পুরুলিয়ার এই বিদ্যালয় এক নতুন চিন্তার দিশারি হয়ে উঠেছে।
