মোবাইল গেম থেকে অপহরণ।
মোবাইল গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিশোরী অপহরণ। আসামের এক বিবাহিত যুবককে গ্রেফতার করল পুরুলিয়ার সাঁওতালডিহি থানার পুলিশ। উদ্ধার করা হল নিখোঁজ কিশোরীকে।
মোবাইল গেমের নেশা যে কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকল পুরুলিয়ার এই ঘটনা।
গেমিংয়ের সূত্রে প্রেমের ফাঁদ পেতে এক কিশোরীকে অপহরণ করে ভিন রাজ্যে পাচারের চেষ্টা ভেস্তে দিল পুলিশ।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আসামের গোলাঘাট থেকে এক বিবাহিত যুবককে গ্রেফতার করেছে সাঁওতালডিহি থানার পুলিশ।
উদ্ধার করা হয়েছে নিখোঁজ হওয়া ওই কিশোরীকেও। খড়গপুর স্টেশনে ওত পেতে বসে পুলিশ অভিযুক্তকে পাকড়াও করে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২১শে ডিসেম্বর। পুরুলিয়ার সাঁওতালডিহি থানা এলাকার বাসিন্দা বছর আঠারোর এক কিশোরী আচমকাই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়।
পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও হদিস না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিখোঁজ কিশোরী মোবাইল গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে এক যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।
সেই সূত্র ধরেই প্রথমে শাহবাজ আনসারী নামে এক স্থানীয় যুবককে গ্রেফতার করে জেরা শুরু হয়। তার কাছ থেকেই উঠে আসে মূল অভিযুক্ত আফাজ হুসেনের নাম।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত আফাজ হুসেন বিহারের আদি বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে আসামের গোলাঘাট জেলার ডেরগাঁও এলাকায় থাকত।
প্রেমের অভিনয় করে সে কিশোরীকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে আনে। এরপর শুরু হয় ট্রেনপথে দীর্ঘ সফর।
শিয়ালদহ থেকে জলপাইগুড়ি হয়ে প্রথমে গুয়াহাটি, সেখান থেকে বিহারের পাটনা এবং পরে বেঙ্গালুরু পর্যন্ত কিশোরীকে নিয়ে যায় ওই যুবক।
পুলিশ যখন জানতে পারে তারা আবারও আসামের দিকে ফিরছে, তখনই খড়গপুর স্টেশনে ফাঁদ পাতা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় ট্রেন থেকে নামার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় আফাজকে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই ঘটনার পিছনে কেবল প্রেম নয়, বরং বড়সড় কোনও নারী পাচার চক্রের হাত থাকতে পারে।
ধৃত আফাজ বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও কেন ওই কিশোরীকে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে বেড়াচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
বৃহস্পতিবার ধৃতকে রঘুনাথপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
কিশোরীকে ইতিমধ্যেই তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের বারবার সতর্ক করে জানানো হচ্ছে, সন্তানেরা মোবাইল গেমে কার সঙ্গে মিশছে সেদিকে কড়া নজর রাখতে।
