আড়শার করন্ডী সরস্বতী পুজোয় সবুজের ছোঁয়া।
পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের বার্তা নিয়ে আড়শা ব্লকের করন্ডী সরস্বতী পুজো কমিটির বিশেষ আয়োজন। সাড়ে চার লাখের বাজেটে নজর কাড়ছে সামন্ত মাঝির ভাবনা ও সচেতনতামূলক বার্তা।
হারানো জঙ্গলের খোঁজে বীণাপাণি, আড়শার পুজো চমকে দিচ্ছে শহরকেও। বর্তমান পৃথিবীতে জঙ্গল ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে, আর তার সাথে সাথে বিলুপ্ত হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।
বিশ্বজুড়ে সবুজের এই অভাব আর ক্রমবর্ধমান উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবী এখন এক মহাবিপদের সম্মুখীন।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়নের ডাক দিতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে আড়শা ব্লকের করন্ডী সরস্বতী পুজো কমিটি।
এবারের পুজোর মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে পরিবেশ রক্ষা ও পাখিদের বাঁচানোর বার্তা দিচ্ছে।
পুরুলিয়ার আড়শা ব্লকের করন্ডী গ্রামের এই সরস্বতী পুজোটি এবার নবম বর্ষে পদার্পণ করল। প্রতি বছরই এই কমিটির পুজো মণ্ডপে নতুনত্বের ছোঁয়া থাকে, যা সহজেই নজর কাড়ে জেলার মানুষের।
গত বছর তাদের থিম ছিল 'বৃদ্ধাশ্রম', যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবছর তারা বেছে নিয়েছে 'সবুজায়ন ও পাখি সংরক্ষণ' থিমটিকে। প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা বাজেটের এই পুজোটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
পুজো মণ্ডপে পা রাখলেই দর্শকরা সরাসরি প্রকৃতির কোলে পৌঁছে যাচ্ছেন। শিল্পী সামন্ত মাঝির নিপুণ ভাবনায় পুরো প্যান্ডেলটি সাজিয়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির আসল গাছগাছালি দিয়ে।
মণ্ডপের প্রতিটি কোণায় সবুজের ছোঁয়া আর পাখিদের কলকাকলির আমেজ তৈরি করা হয়েছে।
শুধু সাজসজ্জা নয়, প্যান্ডেল জুড়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পরিবেশ সচেতনতামূলক বার্তা, যা মানুষকে গাছ লাগাতে এবং বন্যপ্রাণীদের প্রতি দয়ালু হতে উৎসাহিত করছে।
মণ্ডপের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমাতেও আনা হয়েছে বিশেষ বৈচিত্র্য। প্রতিমা তৈরি করেছেন স্থানীয় শিল্পী রমেশ কুমার ও নবীন কুমার।
দেবীর মূর্তির মধ্যেও প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা দেখতে ভিড় উপচে পড়ছে মণ্ডপে।
পুজো কমিটির সদস্য প্রদীপ মাঝি জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো পুজোর আনন্দের পাশাপাশি মানুষের কাছে একটি সামাজিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
সবুজের স্পর্শে মানুষ যাতে কিছুক্ষণ শান্তি পায় এবং প্রকৃতি রক্ষার শপথ নেয়, সেই ভাবনা থেকেই এই থিমের পরিকল্পনা।
পুজো উপলক্ষে উৎসবের আমেজকে আরও রঙিন করতে আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ হলো পুরুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী ছৌনৃত্য।
সব মিলিয়ে করন্ডী সরস্বতী পুজো কমিটির এই উদ্যোগ কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি মহৎ সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
শহরের নামী পুজোগুলোকে টেক্কা দিয়ে গ্রামের এই পরিবেশবান্ধব পুজো এখন সকলের মুখে মুখে।
