পুরুলিয়ায় অলিম্পিকজয়ী ক্যাপ্টেন জয়পাল সিং মুন্ডার ১২৪তম জন্মজয়ন্তী পালন।
পুরুলিয়ায় শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হলো কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় ও আদিবাসী নেতা জয়পাল সিং মুন্ডার জন্মদিন। জেনে নিন তাঁর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী ভূমিজ মুন্ডা কল্যাণ সমিতির পুরুলিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ড এলাকায় এই স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
১৯০৩ সালের ৩ জানুয়ারি তদানীন্তন অবিভক্ত বিহারের (বর্তমানে ঝাড়খণ্ড) রাঁচিতে এক মুন্ডা পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন জয়পাল সিং মুন্ডা।
ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। অক্সফোর্ডের সেন্ট জন্স কলেজ থেকে অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা লাভের পাশাপাশি খেলাধুলাতেও তিনি বিশ্বজুড়ে ভারতের নাম উজ্জ্বল করেন।
তাঁর নেতৃত্বেই ১৯২৮ সালের আমস্টারডাম অলিম্পিকে ভারতীয় হকি দল প্রথম সোনা জয় করেছিল। ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য আজও ভারতীয় খেলাধুলার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।
তবে জয়পাল সিং মুন্ডার পরিচয় কেবল খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন আদিবাসী জনজাতির স্বাধিকার রক্ষার এক আপসহীন সেনানী।
১৯৩৯ সালে তিনি আদিবাসী মহাসভা গঠন করেন এবং ছোটনাগপুর অঞ্চলের আদিবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় আন্দোলনে নামেন।
ভারতের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য হিসেবেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, যেখানে তিনি আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে জোরালো সওয়াল করেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আদিবাসীদের জন্য পৃথক রাজ্যের দাবিতে তিনি যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তা এক ঐতিহাসিক রূপ নেয়।
১৯৪৮ সালের ১ জানুয়ারি খরসওয়াতে তাঁর নেতৃত্বে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে পুলিশের নৃশংস গুলিচালনার ঘটনা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে ‘জালিয়ানওয়ালাবাগ’ হিসেবে পরিচিত।
পরবর্তীতে তিনি রাজনৈতিকভাবেও সফল হন এবং টানা চারবার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আদিবাসীদের দাবি লোকসভায় তুলে ধরেন। তাঁর দেখা সেই স্বপ্নই পরবর্তীকালে পৃথক ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে।
পুরুলিয়ার এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি, পশ্চিমবঙ্গ ভূমিজ উন্নয়ন পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রামপদ সিং সর্দার সহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা জয়পাল সিং মুন্ডার সংগ্রামী জীবন ও তাঁর আদর্শের কথা তুলে ধরেন। বর্তমান প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন দর্শন পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।
