পুরুলিয়ায় পর্যটকের ঢল।

ইংরেজি নববর্ষে পর্যটকদের ভিড়ে মাতল পুরুলিয়া। অযোধ্যা থেকে জয়চণ্ডী পাহাড়, সর্বত্রই প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ও বনবিভাগের সচেতনতায় সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হল পর্যটন উৎসব।

purulia tourism

নতুন বছরের শুরুতে পর্যটকদের ভিড়ে কার্যত জনসমুদ্রের রূপ নিল লাল মাটির জেলা পুরুলিয়া। ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনেই জেলার প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। 

তবে এই বিপুল জনজোয়ার সামলানো প্রশাসনের কাছে এক মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, দিন শেষে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে সসম্মানে উত্তীর্ণ হল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বনবিভাগ। 

কনকনে ঠান্ডাকে সঙ্গী করে পাহাড়ঘেরা পরিবেশে পর্যটকদের এই সফর এবার ছিল অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ।

পুরুলিয়া জেলা পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জনপ্রিয়তার নিরিখে এবারও পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে ছিল অযোধ্যা পাহাড়। 

বছরের প্রথম দিনে এখানে প্রায় ১৬ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটে। এর ঠিক পরেই ছিল ‘হীরক রাজার দেশ’ খ্যাত জয়চণ্ডী পাহাড়, যেখানে পা রেখেছিলেন প্রায় ১২ হাজার মানুষ। 

এছাড়া গড় পঞ্চকোটে দেড় হাজার, বড়ন্তিতে এক হাজার এবং হাতিপাথর, মুরগুমা ও দুয়ারসিনির মতো এলাকাগুলিতেও কয়েকশ পর্যটকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দক্ষিণ সার্কিটের দোলাডাঙাতেও ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ।

বিশেষভাবে নজর কেড়েছে রঘুনাথপুরের জয়চণ্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসব। উৎসবের শেষ দিনে ভিড় সামলাতে গোটা এলাকাকে ৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। 

রঘুনাথপুর থানার পক্ষ থেকে সাদা পোশাকে পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি পর্যটকদের মধ্যে সাইবার অপরাধ নিয়ে সচেতনতা প্রচারও চালানো হয়। 

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে সুশৃঙ্খল পার্কিং এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার নিখুঁত আয়োজনে পর্যটকেরা যথেষ্ট স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। 

অযোধ্যা পাহাড় সংলগ্ন লহরিয়া ও কেষ্টবাজার এলাকাতেও ছিল পিকনিকের উপচে পড়া ভিড়, যা সামলাতে শুরু থেকেই কড়া নজরদারি চালায় প্রশাসন।

শুধুমাত্র নিরাপত্তা নয়, পরিবেশ রক্ষাতেও এবার একধাপ এগিয়ে ছিল প্রশাসন। ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকেই প্লাস্টিক বর্জনের ডাক দিয়েছিল বনবিভাগ। 

অযোধ্যা পাহাড় ও তার পাদদেশের বিভিন্ন নাকা পয়েন্টে তল্লাশি চালিয়ে প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণে বড় সাফল্য মিলেছে বলে জানিয়েছেন পুরুলিয়ার ডিএফও অঞ্জন গুহ। 

তিনি জানান, বড়দিন থেকে বছরের প্রথম দিন পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জেলায় এসেছেন। 

এই বিপুল ভিড় সামলেও ‘পরিবেশবান্ধব পর্যটন’ নিশ্চিত করা গেছে। সব মিলিয়ে নববর্ষের এই মরসুমে পুরুলিয়ার পর্যটন মানচিত্রে সাফল্যের এক নতুন পালক যুক্ত হল।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url