জঙ্গলমহল ক্যারাটে কাপ ২০২৫-এ প্রজেক্ট শক্তির সাফল্য।

ঝাড়গ্রামে অনুষ্ঠিত জঙ্গলমহল ক্যারাটে কাপ ২০২৫-এ পুরুলিয়া জেলা পুলিশের 'প্রজেক্ট শক্তি'-র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বোরোর মেয়েরা একাধিক স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক জিতল।

project shakti

নারী ক্ষমতায়নের এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। ঝাড়গ্রামে অনুষ্ঠিত 'জঙ্গলমহল ক্যারাটে কাপ ২০২৫' প্রতিযোগিতায় পুরুলিয়া জেলা পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ 'প্রজেক্ট শক্তি'-র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেয়েরা অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। 

বোরো থানা এলাকার মেয়েদের এই জয়জয়কার এখন গোটা জঙ্গলমহল জুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

পুলিশের এই মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ যে কতটা সফল, এই প্রতিযোগিতার ফলাফলই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

গত ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ঝাড়গ্রামে আয়োজিত এই মেগা প্রতিযোগিতায় জঙ্গলমহলের চার জেলা—পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম থেকে প্রায় ৩৫০ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল। 

অত্যন্ত কঠিন এবং প্রতিযোগিতামূলক এই লড়াইয়ে বোরো থানার প্রজেক্ট শক্তির মেয়েরা একের পর এক পদক ছিনিয়ে নেয়। 

পদকজয়ীদের তালিকায় উজ্জ্বল নাম অমৃতা প্রামাণিক ও অষ্টমী পাল, যারা প্রত্যেকেই একটি করে স্বর্ণ ও একটি করে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেছে। 

পাশাপাশি কোয়েল মাহাতো এবং সুপ্রিয়া মাহাতো একটি করে রৌপ্য ও একটি করে ব্রোঞ্জ পদক জিতে বোরো থানা তথা সমগ্র পুরুলিয়া জেলাকে গর্বিত করেছে।

এই অসাধারণ সাফল্যের পর বোরো থানার পক্ষ থেকে কৃতী খেলোয়াড়দের বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। 

পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খুদে খেলোয়াড়দের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়, যাতে তারা ভবিষ্যতে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে। 

স্থানীয় অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ জেলা পুলিশের এই ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। 

তাঁদের মতে, গ্রামীণ এলাকার মেয়েদের আত্মরক্ষার পাঠ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরার এই সুযোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

মূলত 'প্রজেক্ট শক্তি' হলো পুরুলিয়া জেলা পুলিশের একটি সুপরিকল্পিত কর্মসূচি, যার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন থানার অন্তর্গত গ্রামীণ মেয়েদের ক্যারাটে ও আত্মরক্ষার কৌশল শেখানো হয়। 

পুলিশের শীর্ষকর্তাদের মতে, এই প্রকল্প শুধুমাত্র খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি মেয়েদের মানসিক দৃঢ়তা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তৈরিতে সাহায্য করে। 

বোরোর মেয়েদের এই সাফল্য প্রমাণ করে দিল যে, সঠিক সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েরাও যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারে। 

আগামী দিনে এই প্রকল্পের হাত ধরে জঙ্গলমহলের আরও অনেক মেয়ে ক্রীড়াক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে, এমনটাই আশা করছে জেলা প্রশাসন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url