ঝালদার হেপাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা।

পুরুলিয়ার ঝালদায় হেপাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মিত পঠনপাঠন ও মিড-ডে মিল বন্ধ থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামবাসীরা। প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।

jhalda hepad primary school

পুরুলিয়ার ঝালদা শহর থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত হেপাদ গ্রাম। গ্রামপথ পেরিয়ে যে ছোট্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা ছিল, আজ সেখানেই সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অবহেলা। 

ঝালদা ৩ নম্বর চক্রের অন্তর্গত হেপাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন পঠনপাঠনের চেয়ে দরজায় তালা ঝোলার শব্দই বেশি শোনা যায়। স্কুল কখন খোলে আর কখন বন্ধ হয়, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। 

এই চূড়ান্ত অব্যবস্থার প্রতিবাদে এবং শিশুদের শিক্ষার অধিকার রক্ষায় এবার ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা।

অভিভাবকদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁদের দাবি, সপ্তাহে একদিনও ঠিকমতো ক্লাস হয় না। 

কোনোদিন শিক্ষিকা অনেক দেরিতে আসেন, আবার কোনোদিন স্কুল খোলারই প্রয়োজন বোধ করেন না কেউ। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বইখাতা হাতে স্কুলের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, কিন্তু তালা বন্ধ দেখে চোখের জল ফেলে বাড়ি ফিরে আসে। 

প্রথম শ্রেণির এক পড়ুয়ার অভিভাবক আক্ষেপ করে জানান, তাঁর সন্তান প্রতিদিন সকালে স্কুলে গিয়ে ফিরে এসে প্রশ্ন করে— "আজও কি পড়া হবে না?" 

এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো ভাষা পরিবারের লোকেদের কাছে নেই। দীর্ঘ সময় ধরে স্কুলে মিড-ডে মিলের রান্নাও বন্ধ। 

ফলে পুষ্টিকর খাবার তো দূরস্ত, স্কুলের প্রতি আকর্ষণই হারিয়ে ফেলছে খুদে পড়ুয়ারা।

গ্রামের প্রবীণ মানুষদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষা হলো একটি শিশুর ভিত্তি। সেই ভিত্তিই যদি নড়বড়ে হয়ে যায়, তবে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। 

এখানে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে নিজের খেয়ালখুশি মতো স্কুল চালানো এবং হাজিরা দেওয়ার। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বছরের বেশিরভাগ দিন স্কুল বন্ধ রাখা হয়। 

বারংবার মৌখিকভাবে শিক্ষা দপ্তরে জানিয়েও কোনো ফল হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের সঠিক নজরদারির অভাবেই একটি সাজানো স্কুল আজ ধ্বংসের মুখে।

এই অচলাবস্থা শুধু একটি স্কুলের সমস্যা নয়, বরং জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। 

একদিকে রাজ্যজুড়ে শিক্ষার প্রসারে নানা প্রকল্পের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরা একবেলা খাবার আর সামান্য অ-আ-ক-খ শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হলেও, গ্রামবাসীরা আর কেবল কথায় আশ্বস্ত হতে রাজি নন। 

দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হেপাদ গ্রামের মানুষের এখন একটাই দাবি—স্কুলের তালা স্থায়ীভাবে খুলুক এবং পঠনপাঠনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসুক।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url