দোলাডাঙা ও দুয়ারসিনিকে প্লাস্টিকমুক্ত করার উদ্যোগ বন দফতরের।
শীতের মরশুমে পুরুলিয়ার দোলাডাঙা ও দুয়ারসিনিতে পর্যটকদের ঢল। পরিবেশ রক্ষায় এই দুই পর্যটন কেন্দ্রকে 'নো প্লাস্টিক জোন' ঘোষণা করল বন দফতর।
শীতের আমেজ বাড়তেই নীল জলরাশি আর সবুজ পাহাড়ের টানে পুরুলিয়ার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
একদিকে বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুর, অন্যদিকে পুরুলিয়ার দোলাডাঙা—কংসাবতী জলাধারের পাড়ে প্রকৃতির এই মিতালি এখন পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য।
মানবাজার-১ নম্বর ব্লকের দোলাডাঙা এলাকাটি তার অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে ক্রমশ মুকুটমণিপুরের মতোই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
পিছিয়ে নেই ঝাড়খণ্ড সীমান্ত সংলগ্ন বান্দোয়ানের দুয়ারসিনিও। দলমা রেঞ্জের ঘন জঙ্গল আর তার কোল ঘেঁষে বয়ে চলা সাতগুড়ুম নদীর শান্ত পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করছে।
তবে পর্যটকদের এই ভিড় বাড়ার সাথে সাথে পরিবেশ দূষণ নিয়েও চিন্তিত প্রশাসন। বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্যের হাত থেকে প্রকৃতিকে রক্ষা করতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে বন দফতর।
প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে দোলাডাঙা ও দুয়ারসিনি এলাকাকে সম্পূর্ণ ‘প্লাস্টিকমুক্ত অঞ্চল’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে কংসাবতী দক্ষিণ বন বিভাগ।
বন দপ্তরের পক্ষ থেকে এই দুই পর্যটন কেন্দ্রকে ইতিমধ্যে ‘নো প্লাস্টিক জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকেই মানবাজার-১ রেঞ্জ এবং বান্দোয়ান-১ বনাঞ্চলের কর্মীরা সক্রিয়ভাবে পর্যটন কেন্দ্রগুলো থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন।
পর্যটকরা যাতে যত্রতত্র প্লাস্টিক বা জলের বোতল ফেলে না দেন, সে বিষয়ে তাঁদের সচেতন করা হচ্ছে।
বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, এই এলাকাগুলোকে পরিচ্ছন্ন রাখতে আগামী দিনে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিও-দের সঙ্গে রেঞ্জ আধিকারিকরা শীঘ্রই বৈঠকে বসবেন যাতে প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় বাড়িয়ে কাজ করা যায়।
পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতামূলক বোর্ড লাগানো হবে এবং নির্দিষ্ট দূরত্বে ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা হবে।
এক অভিনব পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বন দফতর জানিয়েছে, সংগৃহীত প্লাস্টিকের জলের বোতলগুলো ফেলে না দিয়ে তা পুনর্ব্যবহার করা হবে। সেই বোতলগুলোতে মাটি ভরে নার্সারিতে চারা গাছ তৈরির কাজে লাগানো হতে পারে।
কংসাবতী দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও পূরবী মাহাতো জানান, পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্লাস্টিক ফেলার ফলে বনাঞ্চলের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হয়, তেমনই মাটি ও বন্যপ্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি হয়।
তাই দোলাডাঙা ও দুয়ারসিনির মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে প্লাস্টিকমুক্ত রাখাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরাও।
তাঁদের মতে, পর্যটকরা সচেতন হলে এবং এই নিয়মগুলো মেনে চললে জঙ্গলমহলের এই পর্যটন কেন্দ্রগুলো আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।
