পুরুলিয়ায় তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের পিকনিক ঘিরে বিতর্ক।
দলীয় নির্দেশ অমান্য করে হুড়ার ফুটিয়ারি ড্যামে পিকনিক করল তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন। অন্যের ঘাড় ভেঙে খরচ তোলার অভিযোগে সরব সংগঠনেরই একাংশ।
শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া নির্দেশকে উপেক্ষা করে শাসকদলের শিক্ষক সংগঠনের পিকনিক ঘিরে পুরুলিয়া জেলাজুড়ে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ ছিল, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোনো পিকনিক বা বনভোজন করা যাবে না।
পরিবর্তে নির্বাচনের ফলাফলে জয়ের পর উৎসব পালনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই রবিবার ৪ জানুয়ারি হুড়ার ফুটিয়ারি ড্যামে এক বিশাল বনভোজনের আয়োজন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির এই পিকনিকের ব্যানার ও পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শোরগোল শুরু হয়েছে।
অভিযোগ শুধু পিকনিক ঘিরেই নয়, এই অনুষ্ঠানের বিশাল খরচ যেভাবে জোগাড় করা হয়েছে তা নিয়েও সংগঠনের অন্দরেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ব্যক্তিগত পকেট থেকে নয় বরং 'অন্যের ঘাড় ভেঙে' অর্থাৎ প্রভাবশালী মহলের সাহায্যে এই খরচের অর্থ তোলা হয়েছে।
সংগঠনের জেলা সভাপতি সোমনাথ কুইরি অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এটি কোনো ঘটা করে পিকনিক নয়, বরং সংগঠনের কাজ নিয়ে আলোচনার ফাঁকে সামান্য একটু খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন মাত্র।
তিনি আরও দাবি করেন যে, রাজ্য সভাপতির অনুমতি নিয়েই এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তবে তাঁর এই বক্তব্যে চিঁড়ে ভিজছে না দলের নিচুতলার কর্মীদের।
সংগঠনের অনেক শিক্ষকই এই আয়োজনকে অনৈতিক বলে মনে করছেন এবং অনেকেই অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংগঠনের একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সরকারি উচ্চ বেতনভোগী হয়েও কেন পিকনিকের জন্য অন্যের সাহায্য নিতে হবে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বও। পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সরেন জানিয়েছেন, তিনি পুরো বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছেন।
ভোটের আগে যেখানে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত, সেখানে শিক্ষক সংগঠনের এই 'বনভোজন বিলাস' বিরোধীদের হাতে যেমন অস্ত্র তুলে দিয়েছে, তেমনই দলের অন্দরেও তৈরি করেছে বড়সড় ফাটল।
এখন দেখার, দলীয় অনুশাসন ভেঙে করা এই পিকনিকের জন্য শেষ পর্যন্ত কাদের উপর শাস্তির খাঁড়া নেমে আসে।
