আশা কর্মীদের ওপর পুলিশি হেনস্থার প্রতিবাদে বিক্ষোভ আড়শায়।

সাম্মানিক বৃদ্ধি ও বকেয়া মেটানোর দাবিতে আন্দোলনরত আশা কর্মীদের ওপর পুলিশি জুলুমের প্রতিবাদে আড়শা বাজারে পথ অবরোধ করল সারা ভারত কিষান খেত মজুর সংগঠন।

 asha karmi protest arsha road block

 আশা কর্মীদের বিভিন্ন ন্যায্য দাবির সমর্থনে এবং তাঁদের ওপর পুলিশি হেনস্থার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল আড়শা। 

বৃহস্পতিবার আড়শা বাজারের প্রধান মোড়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল সারা ভারত কিষান খেত মজুর সংগঠন। 

এই কর্মসূচির জেরে টামনা-বেগুনকোদর রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল থমকে যায়, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।

দীর্ঘদিন ধরেই আশা কর্মীরা তাঁদের একগুচ্ছ দাবি নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো— মাসিক সাম্মানিক ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা করা এবং বকেয়া সমস্ত পাওনা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া। 

এই দাবিতে গত এক মাস ধরে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি পালন করছেন আশা কর্মীরা, যার প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও। 

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত বুধবার কলকাতা স্বাস্থ্য ভবনে নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে ডেপুটেশন দিতে গেলে পুলিশ তাঁদের ওপর চড়াও হয় এবং ব্যাপক হেনস্থা করা হয়।

কলকাতার সেই ঘটনার আঁচ বৃহস্পতিবার এসে পৌঁছায় পুরুলিয়ার আড়শায়। এদিন সারা ভারত কিষান খেত মজুর সংগঠনের আড়শা শাখার পক্ষ থেকে দোষী পুলিশ কর্মীদের শাস্তির দাবিতে এবং আশা কর্মীদের লড়াইকে সংহতি জানিয়ে রাজপথ অবরোধ করা হয়। 

অবরোধ চলাকালীন সংগঠনের কর্মীরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত থেকে সংগঠনের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রঙ্গলাল কুমার বলেন, "আশা কর্মীরা আমাদের সমাজের স্বাস্থ্য পরিষেবার মেরুদণ্ড। তাঁরা যখন নিজেদের ন্যায্য পাওনার দাবিতে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানাতে স্বাস্থ্য ভবনে গেলেন, তখন তাঁদের ওপর পুলিশি জুলুম চালানো হলো। আমরা এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দাবি করছি অবিলম্বে তাঁদের সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে সাম্মানিক বৃদ্ধি করা হোক।"

এদিন অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালেও বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ চলতে থাকে। ব্লক পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃত্বও এই আন্দোলনে শামিল হয়ে হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি আশা কর্মীদের দাবি পূরণ না হয় এবং পুলিশি নির্যাতন বন্ধ না হয়, তবে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হবে। 

অবশেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখার পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url